বাগানের মাটি নির্বাচনের এবং প্রস্তুত করার সময় একটি বিষয় অনেকেই এড়িয়ে যান এবং কম গুরুত্বের সাথে দেখেন - যা হলো মাটির পিএইচ (pH).

পিএইচ সংকেতটি রসায়ন বিজ্ঞানের ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সহজভাবে বলতে গেলে পিএইচ দিয়ে মাটির এসিডিটি (acidity) বা অম্লত্ব সম্পর্কে জানা যায়। বাগান করার ক্ষেত্রে পিএইচ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তর্ক-বিতর্ক বিদ্যমান কিন্তু উদ্ভিদের সুস্বাস্থ্যের জন্য পিএইচ বিষয়টি সঠিক পরিমাণের মাঝে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। 

সাধারণত পিএইচ এর মাত্রা কম হলে বোঝা যায় যে মাটির অম্লত্ব বেশি, পিএইচ এর মাত্রা বেশি হলে বোঝা যায় যে মাটির অম্লত্ব পরিমাণ কম এবং ক্ষারের পরিমাণ বেশি।

এই পিএইচ এর পরিমাণের সাথে বিভিন্ন উদ্ভিদের সম্পর্ক রয়েছে। আমরা জানি উদ্ভিদের বিভিন্ন পুষ্টিগুণের কারণে কোন কোন উদ্ভিদের অম্লত্ব বা অ্যাসিডিটি বেশি থাকে, আবার কোন উদ্ভিদের এসিডিটি তুলনামূলক কম থাকে।

যদিও উদ্ভিদের এসিডিটি বা অন্যদের সাথে মাটির অম্লত্ব সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই, তারপরও উদ্ভিদের পিএইচ এর মাত্রা যদি অতিরিক্ত বেশি বা কম হয় তাহলে তা উদ্ভিদের বৃদ্ধির পথে তা বাধা হিসেবে কাজ করতে পারে। তাছাড়া পিএইচ এর মাত্রার উপর ভিত্তি করে মাটিতে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অনুজীব যেমন ব্যাকটেরিয়া যেগুলো মাটির উর্বরতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয়, সেগুলো বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে।

তাই পরোক্ষভাবে মাটির পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করার মোটামুটি ভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। খাদ্য শস্য বা বিভিন্ন সবজি চাষ করার ক্ষেত্রে চেষ্টা করা হয় পরিমাণ পিএইচ এর পরিমাণ নিউট্রাল বা ভারসাম্য অবস্থার চেয়ে কিছুটা কম অর্থাৎ সামান্য এসিডিক হিসেবে ধরে রাখা হয়।

মোটামুটি ভাবে একটি উর্বর জমির মাটির পিএইচ সাধারণত ৭ এর কাছাকাছি থাকে এবং ৭ হচ্ছে পিএইচ এর নিউট্রাল বা সাম্যাবস্থা। 

পিএইচ নির্ণয়

পিএইচ নির্ণয় এর জন্য সাধারণত ল্যাবরেটরিতে আপনার জমির মাটি পরীক্ষা বা সয়েল টেস্ট করানো হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের কিটের মাধ্যমে মাটি সংগ্রহ করে সেটা ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে মাটির পিএইচ টেস্টের ফলাফল জানা যায় 

আপনি যে ধরনের উদ্ভিদ চাষাবাদ করবেন, সেই অনুযায়ী পরবর্তীতে মাটির পিএইচ এর পরিমাণ পরিবর্তন করা সম্ভব।

তাই বাগান করা শুরু করার পূর্বে পিএইচ এর ব্যাপারে আপনি যা যা করতে পারেন, তা হলো:

এই তিনটি ধাপ অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনি সহজেই মাটির পিএইচ এর মাত্রা কাঙ্খিত পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারবেন এবং তারই মাধ্যমে আপনার বাগানের উদ্ভিদগুলোর সুস্থ সবল বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারবেন।

বাগানে বিদ্যমান গাছপালার বৃদ্ধি ব্যাহত করার জন্য একটি বড় অংশ বিভিন্ন কীটপতঙ্গ দায়ী। সচরাচর বিভিন্ন কীটপতঙ্গ দেখা যায় যারা কিনা উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ বিশেষ করে উদ্ভিদের পাতা শাখা-প্রশাখা এবং কান্ড খেয়ে ফেলার মাধ্যমে উদ্ভিদের নানাবিধ ক্ষতির সম্মুখীন করে তোলে এবং তার সাথে এভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।

একটি আদর্শ বাগানে অবশ্যই কীটপতঙ্গের বিস্তার রোধ করতে হবে এবং তার মাধ্যমে উদ্ভিদের সঠিক বৃদ্ধি এবং আজকে বিভিন্ন কীটপতঙ্গ বাহিত রোগ থেকে মুক্ত রাখা নিশ্চিত করতে হবে।

 মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, বিষাক্ত রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াও কিছু বিকল্প পথ অবলম্বন করে কীটপতঙ্গকে সহজেই বাগান থেকে দূরে রাখা যায়।

নিম্নোক্ত তিনটি পদ্ধতিতে আপনি খুব সহজেই আপনার বাগানকে কীটপতঙ্গ মুক্ত রাখতে পারবেনঃ

নিমের নির্যাস

নিমের নির্যাস পদার্থটি কি উৎপাদনের জন্য বিষাক্ত না হলেও এটি ভিন্নভাবে একটি কীটনাশক হিসেবে কাজ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোন কীট নিমের নির্যাস খেয়ে ফেলে, তাহলে সেই কীটের জীবন চক্রের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত হয় বা ডিম পারার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়াও, বিভিন্ন উদ্ভিদ নিমের নির্যাস কে শোষণ করে ফেলতে পারে যার ফলে পরবর্তীতে কোন কীট ওই গাছটির কোন খেয়ে ফেলার চেষ্টা করলে তার সাথে নিমের নির্যাস মিশ্রিত থাকে। সাধারণত, ব্যাপক পরিমাণে কীটপতঙ্গের উপযোগী সম্ভাবনা দেখা গেলেই নিমের নির্যাস স্প্রে করে দেয়া উচিত বাগানে।

সাইট্রাস তেল

 সাইট্রাস ফলগুলোর বাহ্যিক ত্বকের মাঝে যে তেল বিদ্যমান থাকে তা বিভিন্নভাবে কীটপতঙ্গ নিরসনে সাহায্য করতে পারে। বিভিন্ন মাছ শিবা পিঁপড়া এবং অন্যান্য ছোট কীটপতঙ্গ কে দূরে রাখার জন্য সাইট্রাস তেল বা সাইটের নির্যাস উল্লেখযোগ্যভাবে কাজে আসতে পারে।

ক্যাপসিসিন স্প্রে

 ক্যাপসিসিন নামক পদার্থটি বিভিন্ন প্রজাতির মরিচ এবং মরিচের জাত উদ্ভিদে বিদ্যমান থাকে। এই উপাদানটি হিসেবেও কিনতে পাওয়া যায় এবং একবার উদ্ভিদের গায়ে স্প্রে করা হলে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত এটি বিভিন্ন কীটপতঙ্গ এমনকি ছোট পশুপাখি থেকেও অতীতকে রেহাই দিতে পারে।

 যেহেতু এই পদার্থটি মরিচ থেকে আহরিত একটি উপাদান, তাই অত্যন্ত সাবধানে থাকতে হবে যেনো এই স্প্রে কোনোভাবেই অসাবধানতাবশত কারো চোখে না চলে যায়।

উপরোল্লিখিত পদ্ধতিগুলো ছাড়াও আমাদের বিভিন্ন পরিচিত উদ্ভিদের যেমন পেঁয়াজ রসুন বা পুদিনার নির্যাসে এমন কিছু পদার্থ বিদ্যমান থাকে যেগুলো সহজেই বিভিন্ন কীটপতঙ্গ কে দমন করতে পারে। সাধারণত, উল্লেখিত নির্যাস গুলোর তীব্র গন্ধ কীটপতঙ্গ রা সহ্য করতে পারেনা এবং যার ফলে বাগানের উদ্ভিদ গুলোকে কীটপতঙ্গ মুক্ত রাখা সম্ভব হয় 

ঘরোয়া বাগান তৈরি করতে গেলে সবার আগে যা প্রস্তুত করতে হয় তাহলো বাগান করার জমি। কারণ, যে কোন বাগানের মূল উপাদান হচ্ছে উদ্ভিদ এবং জমিতে বিদ্যমান মাটি উদ্ভিদের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তাই সর্বপ্রথম আপনি যে স্থানে বাগান করতে চান- সেটি আপনার বাড়ির সামনে ফাঁকা উঠোন হোক অথবা বাড়ির পেছনে পরিত্যক্ত  মাঠ, প্রথমেই সেই জমিকে বাগানের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে হবে।

বাগানের জন্য জমি নির্বাচন  করার সময় বেশ কিছু ব্যাপার এড়িয়ে চলতে হয়.  ঠিক তেমনি ভাবে বাগান করার জমির ক্ষেত্রে কিছু পূর্বশর্তও মেনে চলতে হয়।

নিম্নোক্ত উপায় গুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনি বাগান করার জন্য সঠিক জমি নির্বাচন করতে পারবেন এবং নির্বাচিত জমিকে বাগান করার উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারবেন:

মাটির ধরণ

 একটি সুস্থ বাগানের জন্য মাটি কতটুকু প্রয়োজন তা আমরা ইতোমধ্যে আলোচনা করেছি.  বাগানে জমি নির্বাচনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত মাটির প্রাপ্যতা প্রথমেই সুনিশ্চিত করতে হয়.  কারণ মাটিকে ভিত্তি করেই উদ্ভিদ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত উদ্ভিদের সকল মৌলিক পুষ্টি উপাদানের সরবরাহ মূলত মাটি থেকেই   হবে.  তাই আপনি যে ধরনের উদ্ভিদ চাষ করা পরিকল্পনা করছেন সেই উদ্ভিদের জন্য উপযুক্ত মাটি যাতে আপনার বাগানে থাকে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করা জমি নির্বাচনের প্রথম ধাপ.  তার সাথে ইউ নিশ্চিত করতে হবে যে সেই মাটিতে যেন আগে থেকে কোন ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ কনস্ট্রাকশন বর্জ্য বিদ্যমান না থাকে.

আগাছা দমন

কোন জমিকে বাগানের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলার পরবর্তী ধাপ হচ্ছে আপনার নির্ধারিত জমিতে যদি কোন আগাছা বিদ্যমান থাকে সেটি অপসারণ করা। আগাছা দমনের ব্যাপারটি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে কারণ, জমিতে যদি কম-বেশি আগাছা বিদ্যমান থাকে, তাহলে সেই আগাছা মাটি থেকে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শোষণ করে নিবে। যার ফলে আপনার বাগানে রোপণ করা উচিত গুলো পর্যাপ্ত পুষ্টি নাও পেতে পারে।

রোদের প্রাপ্যতা

উদ্ভিদের  সঠিক বৃদ্ধির জন্য যে বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, তা হল বাগানের জন্য নির্বাচিত স্থানটিতে যেন পর্যাপ্ত রোদের প্রাপ্যতা থাকে। প্রতিটি সবুজ উদ্ভিদের পর্যাপ্ত পরিমাণে রোদের প্রয়োজন হয় কারণ রোদ ছাড়া সেসব উদ্ভিদ সঠিক ভাবে বৃদ্ধি পাবেনা। 

কিন্তু এখানে একটি বিষয় আছে। তা হলো- সকল প্রজাতির উদ্ভিদ এর জন্য একই পরিমাণ রোদের আলোর প্রয়োজন হয় না।  যদি আপনি বাগানে এমন কোন উদ্ভিদ চাষ করার পরিকল্পনা রাখেন যার রোদের আলো কম প্রয়োজন হবে,  সেক্ষেত্রে অবশ্যই প্রয়োজন অনুযায়ী ছায়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

যাতায়াতের পথ নিশ্চিতকরণ

বাগানে কাজ করার সময় নিয়মিত ভিত্তিতে বাগানের বিভিন্ন অংশে যাতায়াত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় উপকরন সমুহ পরিবহন করতে হবে। তাই বাগানের জমি নির্বাচনের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন বাগানের কিনারা বরাবর অথবা বাগানের মাঝামাঝি স্থান বরাবর যাতে পরিকল্পিত পথের ব্যবস্থা থাকে যার মাধ্যমে সহজেই বাগানের যেকোন প্রান্তে যাতায়াত করা যেতে পারে এবং জিনিসপত্র পরিবহন যাতে সহজেই করা যেতে পারে.

উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে সহজেই আপনি বাগান তৈরি করার জন্য উপযুক্ত একটি স্থান নির্বাচন করতে পারবেন.

যে কোন উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান এবং পরিচর্যা। একটি সফল বাগানের মূল চাবিকাঠি হল বাগানে বিদ্যমান উদ্ভিদগুলো কে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদানের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারা। সাধারণত উদ্ভিদ তার প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান মাটি থেকে সংগ্রহ করে শিকরের মাধ্যমে এবং একটি জৈব বাগানে ব্যবহারকৃত কম্পোস্ট সারের মাঝে কমবেশি সকল মৌলিক উপাদান গুলো বিদ্যমান থাকে। তারপরও উদ্ভিদের পরিপূর্ণ বৃদ্ধির জন্য আরও কিছু পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন যার সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য আমরা জৈব বা কৃত্রিম সার ব্যবহার করে থাকি। বিভিন্ন উদ্ভিদ, প্রাণী এবং খনিজ উৎস থেকে সংগ্রহকৃত উপাদান দিয়ে তৈরি জৈব সার নিশ্চিত করে যে উদ্ভিদ প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদানের নিয়মিত সরবরাহ পাচ্ছে।

কিন্তু, যারা নতুন করে বাগান শুরু করছেন তারা প্রতিনিয়ত একটি বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে যা হলো জৈব সার ব্যবহার করা ভালো নাকি কৃত্রিম সার ব্যবহার করা ভালো? আসুন দেখে নেওয়া যাক এক নজরে জৈব সার এবং কৃত্রিম সার এর সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য গুলো এবং কোন ধরনের সার বাগানের জন্য অধিক উপযুক্ত:

জৈব সার হল সেই সার যার সাধারণত বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণিজ উৎস থেকে বিভিন্ন উপাদান নিয়ে তৈরি করা হয়, যার কারণে এসব সার হরেক রকমের পুষ্টি উপাদান বহন করে থাকে. তার সাথে এই সারকে আরো পুষ্টিগুণসম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের জৈব উপাদান মিশ্রিত করে তারপর জৈব সার মাটিতে প্রয়োগ করা হয়।

জৈব সার প্রয়োগের ফলে মাটির বাস্তুসংস্থানের উপযুক্ত পরিচর্যা হয় এবং ফলে উদ্ভিদ তার প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণের একটি বড় অংশ জৈব সারের উপাদান গুলো থেকে সংগ্রহ করতে পারে।

অন্যদিকে কৃত্রিম সার হচ্ছে সেইসব রাসায়নিক সার যেগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি এবং মূলত তিনটি উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়-নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম।

বিভিন্ন ধরনের বাগানের জন্য বিভিন্ন রকম সারের প্রয়োজন হলেও সাধারণত উদ্ভিদ এবং মাটি উভয়ের জন্য জৈব সার তুলনামূলকভাবে বেশি উপযুক্ত। নিম্নোক্ত কারণে কৃত্রিম রাসায়নিক সারের তুলনায় জৈব সার  বেশি নিরাপদ এবং উপযুক্ত:

তাই বাগানে উদ্ভিদগুলোর সুস্থ ও সবল বৃদ্ধির জন্য জৈব সার সর্বদাই অধিক উপযুক্ত এবং বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ব্যতিত রাসায়নিক সার যথাসম্ভব কম ব্যবহার করাই শ্রেয় এবং উদ্ভিদের জন্য অধিক উপযুক্তও বটে। প্রয়োজন অনযায়ী সঠিক পরিমাণে জৈব ও কৃত্রিম সার প্রয়োগ করা হলে তবেই মাত্র উদ্ভিদের সুস্থ-স্বাভাবিক বৃদ্ধি আশা করা যায়।

যে কোন বাগানে উদ্ভিদ চাষের জন্য যে সকল মৌলিক উপাদানের প্রয়োজন হয় তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হল মাটি।   একটি দালান তৈরীর জন্য যেমন শক্তিশালী ভিত্তির বা ফাউন্ডেশন এর প্রয়োজন হয়,  ঠিক তেমনি ভাবে উদ্ভিদের সুস্থ-সবল বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত মাটি।  এখানে উপযুক্ত মাটি বলতে যা বোঝানো হচ্ছে তা হল,  বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদের জন্য বিভিন্ন ধরনের মাটি প্রয়োজন হয়ে থাকে। মাটির প্রকারভেদ যাই হোক না কেন,  যে কোন উদ্ভিদের জন্য মাটির সঠিক পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে। নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনার বাগানের  মাটির সঠিক পরিচর্যা আপনি নিশ্চিত করতে পারবেন।

উপরোক্ত বিষয়গুলো খেয়াল রাখার মাধ্যমে সহজেই বাগানের মাটিকে উদ্ভিদ চাষের জন্য উপযুক্ত এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন করে রাখা সম্ভব