উদ্ভিদ প্রজাতির বৈচিত্র্য বিবেচনা করা

Updated December 11, 2020

অর্গানিক উপায়ে যারা বাগান তৈরী করতে চান তারা সাধারনত প্রকৃতিকে মাপকাঠি ধরে ঠিক একই রকম করে বৈচিত্র্যময় এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে থাকেন।প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো উদ্ভিদের মধ্যে বৃক্ষ, গুল্ম, একবর্ষজীবী এবং বহুবর্ষজীবী গাছ অন্তর্গত। এরকম বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা একসাথে বাগানে লাগালে প্রতিটি প্রজাতি প্রজাতিকে বেঁচে থাকতে বিভিন্নভাবে সাহায্য করে।

  • মিশ্র প্রজাতির গাছ বাগানে লাগালে সুবিধাটি হয় সেটি হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ একত্রে থাকার কারণে সেগুলো পোকামাকড় এবং অসুখের কারণে হওয়া বিশাল পরিমাণ ক্ষতি এড়াতে পারে। কারণ একই প্রজাতির গাছ একটির পাশে অপরটি লাগানো হয় না এক্ষেত্রে। যখন পোকামাকড় একটি প্রজাতির গাছ কে আক্রমণ করে তখন ঠিক পাশেই একই রকমের গাছ থাকে না। এতে করে বিভিন্ন একে অপরকে বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে।
  •  যে গাছগুলোর শিকড় মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত যেতে পারে সেগুলো মাটির গভীর থেকে পুষ্টি উপাদান মাটির উপরের দিকে এনে দেয়। এতে করে যে গাছগুলোর শিকড় মাটির অনেক গভীরে যেতে পারে না সেগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি উপাদান মাটির উপরের অংশ থেকেই সংগ্রহ করতে পারে। এভাবে বিভিন্ন প্রজাতির একটি বাগানে একে অপরকে বাঁচতে সাহায্য করে।
  •  কিছু কিছু গাছ রয়েছে যেগুলো বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে মাটিতে ছড়িয়ে দিয়ে অন্য পুষ্টি উপাদানের ব্যবস্থা করে। এতে করে সেই গাছগুলোর আশেপাশে থাকা বাকি গাছগুলোর উপকার হয় এবং তারা সহজে বেড়ে উঠতে পারে।
  • যে গাছগুলো আকারে বড় হয় এবং সূর্যের আলো পছন্দ করে সেগুলো সাধারনত বাকি যে গাছগুলোর ছায়া, আশ্রয় এবং সহায়তার দরকার সেগুলোকে বাগানে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।

যখন মনোকালচার এ মন কালচারের কৃত্রিমভাবে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির গাছের বিশাল একটি কলোনি জন্মানো হয় তখন সেখানে উদ্ভিদগুলো বৈচিত্র্যময় গাছপালার প্রজাতির যে সুবিধা সেগুলো থেকে বঞ্চিত হয়। এক্ষেত্রে যখন পোকামাকড় এবং কীটপতঙ্গ একটি গাছ কে আক্রমণ করে তখন সেখান থেকে পুরো বাগানের বাকি গাছগুলোতে খুব সহজেই অসুখ ছড়িয়ে যায়। এবং এরপর গাছগুলো মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান খুব দ্রুত গ্রাস করতে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে আমেরিকান বেদারু জাতীয় বৃক্ষের কথা। এই গাছটি পুরো দেশ জুড়ে রাস্তার পাশে লাগানো হয়েছিল। কিন্তু ১৯২০ সালের শেষের দিকে যখন ডাচ বেদারু অসুখ ছড়াতে শুরু করে তখন এই অসুখ এর বাহক গুবরে পোকা গাছ থেকে গাছের শিকড়ে উড়ে গিয়ে অসুখ ছড়াতে থাকে।

অনেক কৃষক এবং যারা বাগান করেন তারা একই জমিতে বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যময় গাছ লাগানোর সুবিধা ভোগ করতে আগ্রহী। একই জায়গায় পরস্পরকে সহযোগিতা করে এমন গাছ লাগানো বাগান করার জন্য বেশ চমৎকার একটি দিক। আপনি আপনার বাগানে ত্রিপত্র জাতীয় গুল্ম লাগাতে পারেন। এটি বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে এর পুষ্টি উপাদান মাটিতে ছড়িয়ে দেয়। এছাড়াও আপনি বড় যে গাছ গুলোর পাতা অনেক বড় এবং নিচে ছায়া হয় সেগুলোর নিচে ছায়াতে জন্মায় এমন গাছ লাগাতে পারেন। এতে করে একই সাথে আপনার বাগানের জমি ঢেকে থাকবে এবং গাছের নিচের মাটিকে ক্ষয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে। 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *